বিজ্ঞানময় কোরআন সম্মত চাঁদ দেখা

বিজ্ঞানময় কোরআন সম্মত চাঁদ দেখা

single image

আমাদের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির যুক্তি, রাসূলুল্লাহ (সা.) চাঁদ দেখে রোজা রাখা এবং রোজা ভাঙার কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে যত হাদিস আছে, তাতে একই রকম মতামত পাওয়া যায়।

সব দিক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে আমরা অন্যান্য দেশের এক দিন পর নতুন চাঁদ দেখতে পাই। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আরববিশ্বে বাংলাদেশের ৩ ঘণ্টা পর সূর্যাস্ত হয়। সে জন্য ৩ ঘণ্টা পর আরববিশ্ব নতুন চাঁদ দেখতে পেলেও সময়ের ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশে তা দেখতে পাওয়া যায় না। এ যুক্তি যদি ধরে নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের এক ঘণ্টা আগে ইন্দোনেশিয়া এবং দুই ঘণ্টা আগে মালয়েশিয়ায় সূর্যাস্ত হওয়ায় তারাও নতুন চাঁদ দেখার কথা নয়। কিন্তু তারা একই গোলার্ধে হওয়ার কারণে আরববিশ্বকে অসুসরণ করে।

বাংলাদেশে সময়ের ব্যবধানে নতুন চাঁদ দেখা না গেলে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কীভাবে দেখতে পারে? বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতি বছরই দেখা যায় আরববিশ্বে যেদিন নতুন হিজরি মাস শুরু করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সেই পঞ্জিকা অনুসরণ করে। তারা আরববিশ্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লাইলাতুল বারাত রোজা রাখে ঈদ এবং লাইলাতুল কদর উদযাপন করে। এ দুটি মুসলিম দেশ আরববিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হিজরি মাস কেন শুরু এবং শেষ করে, তার নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য যুক্তি আছে। বাংলাদেশের ইসলামী স্কলাররা এ দুই দেশের যুক্তিগুলো পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন।

নতুন চাঁদ দেখা নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে বিতর্ক চলছে তা নিয়ে ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি)’ উদ্যোগে ধর্মীয় পণ্ডিত ও নামকরা আলেমরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, একটি মুসলিম দেশে চাঁদ দেখা গেলে অন্যান্য দেশেও তা মানা হবে।

২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল হিজরি ক্যালেন্ডার ইউনিয়ন কংগ্রেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে যে বিভক্তি রয়েছে তা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সম্মেলনে সবাই একমত না হলেও বেশিরভাগ প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ একটি হিজরি বর্ষপঞ্জির পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) শুধু আরব দেশের জন্য প্রেরিত নবী নন। তার ভাষ্য মতে ইন্নি রাসূলুল্লাহি ইলাইকুম জামিয়া’ আল্লাহ তাকে সারা বিশ্বের জন্য নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগের বিশ্ব আজকের মতো তৎক্ষণিক ও ব্যাপক যোগাযোগের আওতায় ছিল না। তাই বিশ্বের কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে তা বিশ্বের অন্য দেশের জনগণের জানার সুযোগ ছিল না।

Spread the love

আপনার মতামত লিখুন