পাপিয়ার অধীনে কাজ করত ১৭ শ’ সুন্দরী তরুণী

  • superadmin
  • ১৫ সেপ্টেম্বার ২০২০

পাপিয়ার অধীনে কাজ করত ১৭ শ’ সুন্দরী তরুণী

single image

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওমেনাইজিং বিজনেসের সাথে জড়িত ছিল এক হাজার ৭০০ সুন্দরী নারী। এসব নারীকে বিভিন্ন কৌশলে কাজে লাগিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্ষমতার শীর্ষস্থানীয়দের কাছে। দেশের ৬৪ জেলায়ই ছিল তার নেটওয়ার্ক। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পাপিয়া গ্রেফতারের পর থেকেই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফলে পাপিয়াকাণ্ডে ফাঁসতে যাচ্ছেন অনেকেই। এ কারণে আতঙ্কে ভুগছেন পাপিয়ার ঘনিষ্ঠজনরা। কারণ তাদের খুঁজছেন গোয়েন্দারা। তারা কোথায় যাতায়াত করেন, কাদের সাথে সময় কাটান এসব বিষয়ের ওপর নজর রাখছে গোয়েন্দারা। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রত্যেকের আমলনামা পাঠানো হবে শীর্ষ মহলে। পাপিয়া ভেবেছিলেন ওপরে ওঠার সহজ সিঁড়িই হবে দেহব্যবসা। আর সেই পথচলাকে নিরাপদ করতে প্রথমে ক্ষমতাধরদের মধ্যম সারির একটি গ্রুপের ওপর ভর করে পথ চলা শুরু করেন পাপিয়া। তাদের হাত ধরেই পৌঁছে যান ক্ষমতার শীর্ষপর্র্যায়ে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। বাংলাদেশ স্কট সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি অনলাইন গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় পাপিয়ার হাত ধরে। ওই স্কট সার্ভিস থেকেই অভিজাতদের কাছে নারী সরবরাহ করা হতো।

জানা গেছে, ঢাকার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের লেভেল-২২ এ এক হাজার ৪১১ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিলাসবহুল প্রেসিডেনসিয়াল স্যুট। সেখানে অতিথিদের নিয়ে সুন্দরী তরুণীদের সাথে বৈঠক করতেন পাপিয়া। এরপর পছন্দসই তরুণীকে নিয়ে গোপন কক্ষে প্রবেশ করতেন ভিআইপিরা। ওয়েস্টিনের ২২ তলায় চার বেডরুমের ওই স্যুটের প্রতিরাতের ভাড়া সাধারণভাবে দুই হাজার ডলারের মতো।

পাপিয়ার রাজ্যে বিচরণ ছিল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার অনেক শীর্ষ ব্যক্তিরই। ওয়েস্টিন হোটেলের কর্মকর্তারাও জানতেন তার অপকর্ম সম্পর্কে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরাও পাপিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে যেতেন হোটেল ওয়েস্টিনে। এ ছাড়াও গুলশানের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় আরো তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েই নারী ব্যবসা চালান পাপিয়া। যারা ওয়েস্টিনে যেতে সমর্থ রাখে না তাদের যাতায়াত ছিল ওই সব অ্যাপার্টমেন্টে। দেশের কোনো পর্যটন এলাকায় ঘুরতে গিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য নারী সংগ্রহ করতে চাইলে বাংলাদেশ স্কট সার্ভিসের নম্বরে ফোন দিলেই সেখানে তরুণীদের পাঠিয়ে দেয়া হতো। এ ছাড়াও মন্ত্রী এমপি আমলাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজ বাগিয়ে নিতেও ব্যবহার করা হতো সুন্দরী তরুণীদের। পাপিয়ার এই অনলাইন সার্ভিস দেখার পর বেশ কয়েকটি দেহ ব্যবসার অনলাইন সার্ভিস শুরু হয়। যার সবই জানতেন যুব মহিলা লীগের দুই শীর্ষ নেত্রী, এক নারী এমপি ও শীর্ষ কয়েকজন নেতা। তাদের মাধ্যমেই মন্ত্রী এমপিদের বাগে এনেছেন পাপিয়া। সামাল দিয়েছেন ব্যবসার আইনি ঝামেলা।

Spread the love

আপনার মতামত লিখুন